হরমুজ সংকট

এলএনজি বাণিজ্যে স্থবিরতার পূর্বাভাস শেলের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

ফলে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেলের বার্ষিক এলএনজি পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বছর বিশ্ববাজারে এলএনজি বাণিজ্য গত বছরের স্তরেই অপরিবর্তিত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা লেগেছে। হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলে তীব্র বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারের মোট মাসিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এ ধাক্কা সামলে ২০২৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি বাণিজ্য আবারো ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।

স্বল্পমেয়াদে এ সংকটের ফলে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম অনেক বেড়ে গেছে, কাতারের গ্যাস রফতানি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং নতুন সরবরাহ প্রকল্পগুলো পিছিয়ে পড়ছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের চড়া দাম বজায় থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যয় সংবেদনশীল ক্রেতারা কয়লা ও অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মতো কম দামি বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের ডেটা অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এশিয়ায় এলএনজি আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ কমে ১২ কোটি ৭৭ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এলএনজির চাহিদা প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে শেল। মূলত এশিয়ার দেশগুলোয় কয়লার বিকল্প হিসেবে কম কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নতুন ডেটা সেন্টারগুলোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এ জ্বালানির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭০ কোটি টনে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ টন।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এলএনজি আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই করবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির চাহিদা মেটাতে এবং কয়লার ব্যবহার কমাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো এলএনজির ওপর নির্ভর করছে। শেল জানিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের মোট গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টন এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেলের মতে, এ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে ২০৩০ ও ২০৪০-এর দশকে নতুন এলএনজি রফতানি প্রকল্পগুলোয় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

আরও